৫/এ লেন, ৭৫# হাউজিং এস্টেট, আম্বরখানা, সিলেট
بسم الله الرحمن الرحيم

মাদরাসা পরিচিতি

কুরআন হলো এক ঐশী নূর, অন্ধকার পথের আলোকধারা, অচেনা গন্তব্যের নিশ্চিত দিশা, ব্যথিত হৃদয়ের শান্তনা, নিরুদ্যম অন্তরের উদ্দিপনা। কুরআন এক চিরায়ত সত্য। যার কোনো নাশ নেই। এর রক্ষক স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে "নিশ্চয় কুরআনকে আমিই অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর রক্ষণাবেক্ষণ করবো" - সূরা হিজর আয়াত-০৯।

কুরআন রহমত, তার পাঠ রহমত এবং শ্রবণও রহমত।

হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, "কুরআনের একটি হরফ যে পড়বে, বিনিময়ে একটি সাওয়াব পাবে, এবং সে সাওয়াবকে দশ গুণে বৃদ্ধি করা হবে"। রাসুল স. বলেন, "আমি বলছি না যে, আলিফ লাম মীম একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ" (জামে তিরমিযী ২০১৯)।

পবিত্র কুরআনের ছাত্র-শিক্ষককে হাদীসে শ্রেষ্ঠতম মানব বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। (সহিহ বুখারী: ৫০২৭)

কুরআনের হাফেজ হলো মর্যাদাবান ফেরেশতার মতো। (সহিহ বুখারী: ৪৯৩৭) আর কেনইবা হবে না? এটা যে স্বয়ং আল্লাহর কালাম। আর আল্লাহর বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব সকল বাণীর উপর তেমনই, যেমন আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব সকল সৃষ্টির উপর। (তিরমিযী: ২৯২৬)

تاريخنا

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

কুরআন ও হাদীসের উপরোক্ত চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বিশ্বশ্রেষ্ঠ ইসলামি বিদ্যাপীঠ দারুল উলূম দেওবন্দের শাখা হিসেবে ২০১৪ সালের রমজান মাসে সিলেট নগরীর অভিজাত এলাকা হাউজিং এস্টেটের ৮নং সড়কের ৬৪নং বাসায় সিলেটের উলামায়ে কেরামের পরামর্শে ও আন্তর্জাতিক হাফেজ ও ক্বারীদের দিকনির্দেশনায় প্রতিষ্ঠিত হয় তাহফিজুল কুরআন ও তালিমুস সুন্নাহ সিলেট।

সূচনার মাত্র ১ম মাসেই সমগ্র সিলেটে সাড়া পড়ে যায়। ফলে ছাত্ররা অধিকহারে ভীড় জমায় এবং সবক'টি আসন কয়েকদিনের ভেতরেই পূর্ণ হয়ে যায়। সীমিত আসন থাকায় ভর্তি কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করতে হয়।

অতঃপর এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে ইতিহাস সৃষ্টি করে। ফলে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং অভিভাবকদের অনুরোধ বাড়তে থাকে। ছাত্র সংকুলান না হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে একটু বিস্তৃত পরিসরে আরো বেশি কুরআন অনুরাগী ছাত্র ভর্তির সুযোগ প্রদানের প্রত্যয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৫ সালের ১লা জুন মাদরাসার স্থান পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে মাদরাসাটি হাউজিং এস্টেট ৫/এ লেন ৭৫ নং দো'তলা বিশিষ্ট বাসায় অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে পরিচালিত হয়ে আসছে।

আলহামদুলিল্লাহ, কুরআনের এই প্রতিষ্ঠানটি তার উদ্দেশ্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছে ঈর্ষণীয় গতিতে। শুরু থেকে অপ্রতিরোধ্য সাফল্যে এগিয়ে চলা এই প্রতিষ্ঠানটি তার সফলতাকে ধরে রাখতে ধর্মপ্রাণ সকল মুসলমানের সার্বিক সহযোগিতা ও সুপরামর্শ একান্ত প্রয়োজন। রহমতে খোদাওয়ান্দি সঙ্গী হলে কুরআনের এই প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে তখন আবিষ্কার করবে এক অনন্য উচ্চতায়।

আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ পাকের অশেষ কৃপায় মাদরাসার স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জালালাবাদ থানার অন্তর্গত কেন্দ্রীয় নতুন কারাগারের সন্নিকটে বিশ্বরোড সংলগ্ন ১২ ডিসিমিল জায়গা খরিদ করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে অচিরেই স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্মাণ কাজ শুরু হবে ইনশাআল্লাহ।

প্রতিষ্ঠাতা

হাফিজ ক্বারী মাওলানা ওলীউর রহমান খান

প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক

أهدافنا

★ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য

১. আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সুন্নাহর অনুসরণ

মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন এবং সুন্নতে নববীর পদাঙ্ক অনুসরণ।

২. কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা

সাহাবায়ে কেরাম ও আইম্মায়ে দ্বীনের গবেষণাপ্রসূত জ্ঞানের আলোকে কুরআন-সুন্নাহর পরিপূর্ণ শিক্ষা প্রদান।

৩. আকাইদ ও ফিকহের সংরক্ষণ

আকাইদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ও ফিকহে হানাফীর সংরক্ষণ এবং দেওবন্দী সিলসিলার তালিম ও তারবিয়্যাতের যথাযথ অনুশীলন।

৪. আলেমেদ্বীন ও হাফিজ তৈরি

ইলমে দ্বীন হাসিলের সাথে সাথে নেক আমল ও আখলাকে নববীর আলোকে জিন্দাদিল আলেমেদ্বীন ও হাফিজে কুরআন তৈরি করা — যাদের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য হবে দ্বীনের প্রচার প্রসার ও সংরক্ষণ।

مميزاتنا

★ মাদরাসার বৈশিষ্ট্য

অভিজাত পরিবেশ

অভিজাত এলাকায় সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ।

প্রচলিত রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস

প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচলিত রাজনীতি সম্পূর্ণ বর্জিত।

সালফের আদর্শ

কুরআন-সুন্নাহ, সালফে সালিহীন ও আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের নীতি ও আদর্শে পরিচালিত।

পাঁচ ওয়াক্ত জামাত

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় ও বিশেষ বিশেষ দিবসে রোজা পালনে অভ্যস্থ করা।

সিসি ক্যামেরা

সি সি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও পাঠদান তদারকি।

অভিজ্ঞ শিক্ষক

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী দ্বারা নিয়মিত পাঠদান।

স্বল্প সময়ে হিফজ

স্বল্প সময়ে হিফজ সম্পন্ন করার প্রয়াস।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ।

সমতাভিত্তিক সিট

আবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সের সমতাভিত্তিক সিট বণ্টনের ব্যবস্থাপনা।

দৈনিক প্রশ্নোত্তর

ইয়াদ মজবুত করার লক্ষ্যে দৈনন্দিন প্রশ্নোত্তর।

অভিভাবক সাক্ষাৎ

নির্ধারিত সময়ে অভিভাবকদের সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা।

সুষম খাবার

তিন বেলা উন্নতমানের ও সুষম পুষ্টিকর খাবারের সু-ব্যবস্থা।

খেলাধুলা

ইনডোর ও আউটডোরে খেলাধুলার ব্যবস্থা।

২৪ ঘণ্টা তত্ত্বাবধান

২৪ ঘণ্টা শিক্ষকদের সার্বিক তত্ত্বাবধান।

إسهامنا

প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য ও অবদান

এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য—শুধু হাফেজ তৈরি করা নয়; বরং এমন এক প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা কুরআনকে হৃদয়ে ধারণ করবে এবং সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করবে।

এখানে শিক্ষার্থীদের তিলাওয়াত, হিফজ, আদব-আখলাক, আমল—সবকিছুর প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্রতিষ্ঠান থেকে বহু মেধাবী হাফেজ বের হয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জন করে।

২০১৫ সাল থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিযোগিতায় এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে আসছে।

এছাড়াও বেফাক, আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষায় শতভাগ সফলতা অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তার মান ও মর্যাদা প্রমাণ করেছে।